চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর: ‘রাজত্বের হাতবদল’ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।
প্রশাসনের হাজারও একর খাসজমি ও দুর্গম ভূ-প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে অঘোষিত এক অপরাধ রাজ্য। যৌথ বাহিনীর সাম্প্রতিক একাধিক বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান এবং তল্লাশি চৌকি স্থাপনের পর ধারণা করা হয়েছিল যে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের প্রভাব বুঝি চিরতরে শেষ হলো। কিন্তু মাঠপর্যায়ের সাম্প্রতিক চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—পাহাড়ের গহিনে খোলস বদলে আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী।
কেন এবং কীভাবে সক্রিয় হচ্ছে অপরাধ চক্র?
যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে শীর্ষ গডফাদাররা আত্মগোপনে গেলেও তাদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। আড়ালে থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ সারির ক্যাডারদের দিয়ে পরোক্ষভাবে অপরাধের নাটাই পরিচালনা করা হচ্ছে।
১২টি ছোট-বড় বাহিনীর তৎপরতা: এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে অন্তত এক ডজন ছোট-বড় স্থানীয় গ্রুপ ও সাব-গ্রুপ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
দখলবাজি ও অদৃশ্য চাঁদাবাজি: সাধারণ চোখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও পাহাড়ি প্লট দখল, অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ এবং দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায়ের প্রক্রিয়া নতুন ছকে চালু রাখা হয়েছে।
সেক্টরপ্রশাসনিক দাবিস্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
আইনশৃঙ্খলাস্থায়ী ক্যাম্প ও তল্লাশি চৌকির মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণেপ্রবেশমুখে কড়াকড়ি থাকলেও পাহাড়ি গহিনে অপতৎপরতা অব্যাহত
শীর্ষ অপরাধীসাঁড়াশি অভিযানে অনেক ক্যাডার আটকমূল গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ছে
নাগরিক সেবাখাসজমি উদ্ধার ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনাঅবৈধ বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখেও সলিমপুরের অপরাধ চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এখানকার প্রায় ৩,১০০ একর পাহাড় কেটে তৈরি অনিয়ন্ত্রিত বসতি ও ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থান।
জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হলে কেবল সাময়িক অভিযান বা পাহারা পর্যপ্ত নয়। অপরাধী চক্রের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সরকারি মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন করে প্রকৃত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।